“নো হেলমেট নো পেট্রল”-এর নিয়ম কি শিথিল হয়েছে?

বছর দুয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী “সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ” এর প্রচারে স্লোগান তুলেছিলেন, “নো হেলমেট নো পেট্রল।” গোটা রাজ্যেই জারি হয়েছিল নির্দেশিকা। পেট্রল পাম্পগুলিতে লাগানো হয়েছিল ব্যানার। দু’বছরেই সরে গেছে সেই ব্যানার কিংবা পড়েছে মোটা ধুলোর আস্তরণ। অভিযোগ, সক্রিয়তা নেই পুলিশেরও। তার ফাঁক গলেই চলছে নিয়ম ভাঙার খেলা। কলকাতা শহর থেকে শহরতলি, সর্বত্রই ছবিটা এক।
সোদপুর-মধ্যমগ্রাম রোডের উপর মুড়াগাছায় অভি পেট্রোল পাম্প। দেখা গেল নিয়ম ভাঙার ছবিটা। হেলমেট ছাড়া পেট্রল পাম্পে ঢুকছে একের পর এক মোটরবাইক। অবলীলায় তাদের বাইকে ভরা হচ্ছে তেল। না, নির্দেশিকা মানার কোনও বালাই নেই। মহম্মদ ফারুকের মত দু’একজন অবশ্য হেলমেট পরেছিলেন। বললেন, “হেলমেট ছাড়াই তেল দেওয়া হচ্ছে। হেলমেট পড়া অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেটা মানে না কেউ। এতে মুখ থুবড়ে পড়ছে সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ প্রকল্প।”

“নো হেলমেট নো পেট্রল”-এর নিয়ম কি শিথিল হয়েছে? সে সম্পর্কে রয়েছে প্রশ্ন। শুধুই কি শহরতলি? কলকাতা শহরেও দেখা যাচ্ছে একই চিত্র! লালবাজারের ট্রাফিক বিল্ডিংয়ের অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায়, বন্দর এলাকাতেও এবিষয়ে নিয়ম নাস্তি। সেখানে নাকি নিয়মভাঙাটাই নিয়ম। বহু অভিযান চালিয়েও এই এলাকায় হেলমেটহীন বাইক আরোহীদের তেল দেওয়া বন্ধ করা যায়নি। গত বছরও পশ্চিম বন্দর, দক্ষিণ বন্দর সহ বেশ কয়েকটি থানা এলাকার পেট্রল পাম্পে অভিযান চালায় পুলিশ। করা হয় মামলা। কিন্তু তারপরও এই প্রবণতা একফোঁটাও কমেনি। তবে কি বন্দর এলাকা ছেড়ে দিলে বাকি কলকাতায় মানা হচ্ছে নিয়ম?

কেন দিচ্ছেন তেল? পাম্পের এক কর্মীর সোজাসাপটা জবাব, “এখানে স্থানীয়রা আসে তেল নিতে। সব সময় হেলমেট পরে আসা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তা ছাড়া নানা অশান্তি হয়। আর তাই আমরা হেলমেট ছাড়াও তেল দিই। “সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ” নিয়ে চলছে প্রচুর প্রচার। কখনও তৃণমূল দলের তরফে কখনও আবার বিধায়করা হেলমেট বিলির বহু প্রোগ্রাম করছেন।নয়। তা ছাড়া নানা অশান্তি হয়। কিন্তু তারপরও সচেতনতা বাড়েনি সাধারণ মানুষের মধ্যে। আর তাই আমরা হেলমেট ছাড়াও তেল দিই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com